ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এ নির্দেশ দেন।
বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান ও বুশরা বিবি। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ইমরান খানকে একাকী কারাবন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।
আদালত বলেছেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।
এ ছাড়া ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন করে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ সীমিত করার অভিযোগ করে আসছেন। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে যান বুশরা বিবি। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি আবার গ্রেপ্তার হন। এরপর আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়।
ইমরানের চিকিৎসা নিয়েও বিরোধ
ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানান।
তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ইমরান খানের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে, তাকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পিআইএমএসে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের বেঞ্চে ওই শুনানি হবে। বেঞ্চে থাকবেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।
একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
Posted ৬:২৪ এএম | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।